
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঘোষিত কোন বালুমহাল না থাকায় বেশ কিছুদিন থেকে চরম বালু সংকটের কারনে সরকারি মাঝারি ও বড় নির্মাণ কাজসহ বেসরকারি নির্মাণ কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, সমস্যায় জর্জরিত, তাই ধীর গতিতে চলছে সকল প্রকল্পেরও কাজ।
বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে নদী খননের উত্তোলনকৃত বালুর প্রাপ্যতা খুব সহজ ছিল কিন্তু ইংরেজি ২০২৩-২৪ সালের পর এ অঞ্চলে উত্তোলনকৃত বালু সমূহ ইজারা দিয়ে অপসারণ করা হয়।
তাছাড়া বীরগঞ্জে আত্রাই নদীর ঘোষিত শতগ্রামের বলদিয়াপাড়া ও সুজালপুর মাকড়াই বালুমহাল/বালুঘাট ইজারা দেয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বালু সংকট শুরু হয়েছে।
বৃহৎ বৃহৎ বালু মহাল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা।
বীরগঞ্জের কাশিপুর মৌজায় ৩৯১, ৩৯২ ও ৩৯৫ দাগ সোজা আত্রাই নদীর পশ্চিম তীর হতে পূর্ব তীর দক্ষিণ দিকে ১ কিঃ মিঃ বিস্তৃত বালুচর। একটি প্রবল সম্ভাবনাময় বালুমহাল।
বিগত ইংরেজি ২০২৪ সাল থেকে জনৈক সোহেল রানা প্রযত্নে মোশাররফ হোসেন এই সম্ভাবনাময় স্থানটিকে সরকারিভাবে বালু মহাল ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনসহ দীর্ঘদিন থেকে অপেক্ষমান।
ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত মহালটি যৌথ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদনকারী এতদ্ব সংক্রান্ত বালুমহাল সৃজন এবং মধ্যবর্তী সময়ে ইজারা নেয়ার জন্য ১৪৬৮৯/২৫ নম্বর রীট আনয়ন করেছেন, যা চলমান।
সম্প্রতি বালুর তীব্র সংকট চলছে মর্মে বীরগঞ্জ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আব্দুল বাসেত এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিশিষ্ট ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, আলম হোসেন জানান বালুর তীব্র সংকটের কারণে সরকারের সাথে আমাদের চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন, মজিবর রহমান, সাজেদুর রহমান,হামিদুল ইসলাম জানান এলাকায় বালু না থাকার কারণে দূর থেকে অধিক ভাড়া দিয়ে বালু এনে কাজ করতে হচ্ছে একই কথা বলেছেন রাস্তা পাকা করণ কাজের ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম।
বালু সংকটের কারনে সব নির্মান কাজে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাই কাজের গতিও কমে গেছে।
বালু সংকটের কারনে সরকারি বেসরকারি নির্মাণ কাজের চরম সমস্য সৃষ্টি হয়েছে মর্মে স্বীকার করেছেন নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, শতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিৎ রায় কার্তিক, পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী মানিকসহ বীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা মেহেদি হাসান।
বালির সংকট নিরসনে গত ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে পুনরায় জেলা প্রশাসক দিনাজপুর বরাবর আত্রাই নদীর সম্ভাবনাময় ওই বালুচর কে দ্রুত বালু মহল ঘোষণা করার লক্ষ্যে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আবেদনকারীর আবেদনটি দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্যও অনুরোধ করেছেন।
এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক দিনাজপুরের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)- জানে আলমের সাথে কথা হলে তিনি আবেদনকারীর আবেদন এবং এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে সুরাহা করা হবে।
একই বিষয়ে দিনাজপুর-১ বীরগঞ্জ কাহারোল আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু_ এমপি’র সাথে কথা হলে তিনি বালু সংকটের তীব্রতা এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিঘ্নের কথা জেনেছেন।
তাই বালুর প্রাপ্যতা সহজ করতেই জনস্বার্থে আত্রাই নদীতে আবেদনকৃত বালুচরটি বালুমহাল ঘোষনার কার্যক্রম হাতে নিয়ে চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময় আবেদনকারীকে ইজারা দেয়ার জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মহোদয় কে ডিও লেটারে অনুরোধ করেছি। আশা করছি খুব শিঘ্রই প্রস্তাবিত কাশিপুর বালু মহাল চালু হবে।