
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক পাশে ব্যস্ত বাইপাস সড়ক, অন্য পাশে পাহাড়ঘেরা এলাকা। মাঝখানে গড়ে উঠেছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নর্থ স্টার ইন্টারন্যাশনাল কে.জি. স্কুল। বাইরে থেকে আর দশটি বেসরকারি স্কুলের মতোই মনে হলেও প্রতিষ্ঠানটির জমির মালিকানা, সরকারি খাসজমি দখল এবং পেছনের পাহাড় কাটা নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়া, বাইপাস সড়কসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি খাসজমি দখল করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে আশপাশের পাহাড় কাটার অভিযোগও ওঠে এসেছে।
এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কক্সবাজার আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (সহকারী এ.পি.পি) অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জমি দখলসহ নানা কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। এমনকি নিজের ভাই-বোনের জমির অংশ জোরপূর্বক বিক্রি করে পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন। স্কুলের পেছনে পাহাড় কাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি পাহাড় কাটিনি, বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়েছে।
খাসজমি দখলের অভিযোগের বিষয়েও ভিন্ন দাবি তার। গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট জমি তার পিতা মাওলানা সোলতান আহামেদ খান, জিএম সলিম উল্লাহ ও হাজী জালাল আহমেদের নামে আদালতের রায়-ডিক্রির ভিত্তিতে পাওয়া। জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় এখনো বিএস খতিয়ান করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুলের পেছনের পাহাড়ে ধাপে ধাপে মাটি কেটে স্থাপনা নির্মাণ ও জায়গা সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাহাড়টি কি প্রাকৃতিকভাবে ধসে পড়েছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে কাটা হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরদাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এ.পি.পি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেও একই পদে বহাল থাকায় আদালতপাড়ায় তাকে ঘিরে নানা আলোচনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
একই সঙ্গে নর্থ স্টার ইন্টারন্যাশনাল কে.জি. স্কুলের পেছনের পাহাড় প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে কাটা হয়েছে, তাও নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।