
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, স্বর্ণালংকার ও টাকা দাবি এবং দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিল্পী আক্তার ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার অষ্টগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী শিল্পী আক্তার অষ্টগ্রাম উপজেলার মধ্য অষ্টগ্রাম (বাগপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, প্রায় ১৪ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগপাড়া এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে বাছির মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা দেওয়া হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে শিল্পী আক্তার দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে টাকা নিত। একপর্যায়ে তার স্বামী আরও টাকা দাবি করেন এবং দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকদিন যাবত তার স্বামী বাছির মিয়া তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা করে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন পূর্বে ঢাকা থেকে সুমি আক্তার (২৫) নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসে তার স্বামী বাছির মিয়া।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মধ্য অষ্টগ্রাম (বাগপাড়া) এলাকায় স্বামী বাছির মিয়া, তার সতিন সুমি আক্তার-সহ অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিল্পী আক্তারের অভিযোগ, ঘটনার সময় তার স্বামী বাছির মিয়া ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরনের স্বর্ণের চেইন, কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাস্পাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান না হওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান শিল্পী আক্তার।
অভিযোগে স্বামী বাছির মিয়াসহ তার শ্বশুরবাড়ির কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করলে তা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।